ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বাতজ্বর ও হৃদরোগজনিত সমস্যা

২০১৪ নভেম্বর ০৩ ১২:৪১:১৮
বাতজ্বর ও হৃদরোগজনিত সমস্যা

বাতজ্বর অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাতজ্বর ও বাতজ্বরজনিত হৃদপিণ্ডের অসুখ বিগত কয়েক দশকে উন্নত দেশগুলোতে উলেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশে এর প্রাদুর্ভাব এখনো অনেক বেশি। অনেক শিশুই জীবনের উষালগ্নে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালমৃত্যু বরণ করে কিংবা চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে অন্যের গলগ্রহে জীবনযাপন করে। উচ্চ রক্তচাপের পরই আমাদের দেশে বাতজ্বর হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এই রোগে প্রতিবছর অনেক শিশু-কিশোর ও যুবক আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৭.৫ জন লোক এবং প্রতি হাজারে চারজন শিশু বাতজ্বর ও বাতজ্বরজনিত রোগে ভুগছে। হাসপাতালে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগী বাতজ্বরজনিত হৃদরোগের কারণে ভর্তি হয় এবং হার্ট অপারেশনের শতকরা ৭০-৮০ ভাগ বাতজ্বরজনিত হৃদরোগের কারণে ভর্তি হয়ে থাকে।

বাতজ্বর কী? কেন হয়? কিভাবে চেনা যায়? এর বিস্তৃতি কতটা ব্যাপক? বাতজ্বরজনিত জটিলতা এবং কী করে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়, সে সর্ম্পকে সংক্ষেপে এখানে আলোকপাত করা হলো।

বাতজ্বর কী?

অনেক সময় দেখা যায় শিশুদের গায়ে প্রায়ই জ্বর থাকে। জ্বরের সাথে শরীরে ব্যথা হয় ও গিরা ফুলে যায়। কোনো সময় একটি বড় গিরা কিংবা একই সাথে অনেক গিরা আক্রান্ত হতে পারে। একবার হলে বারবার হতে থাকে। গিরা ব্যথার পরই যে উপসর্গটি দেখা দেয় তা হলো হৃদপিন্ডের প্রদাহ (Carditis)। এই প্রদাহ সাধারণ লোকের পক্ষে বুঝে ওঠা এত সহজ নয়। তবে একজন সাধারণ লোক যা বুঝতে পারে তা হলো-শিশুর ঘন ঘন জ্বর হয়, বুক ধড়পড় করে, শ্বাসকষ্ট হয়, শিশু খেতে চায় না ইত্যাদি। যেহেতু শিশুর গায়ে প্রায় সময়ই জ্বর থাকে ও খাবারে অনীহার দরুন স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে, শিশু শুকিয়ে যায় এবং আশানুরূপ ওজন বাড়ে না। অনেক সময় দেখা যায় এজাতীয় জ্বর হওয়ার আগে শিশুর গলাব্যথা করে। এই জ্বর সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের শিশুদের হয়ে থাকে। চার বছরের নিচের কিংবা ২২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের বাতজ্বর খুবই কম হয়।

বাতজ্বর কেন হয়?

এই জ্বর প্রধানত বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক ধরনের জীবাণু দ্বারা হয়। দারিদ্র্য, ঠাণ্ডা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং অজ্ঞতাই এ রোগের প্রধান কারণ। যেসব শিশুর দীর্ঘ দিন ধরে খোসপাঁচড়া ও টনসিলের ব্যারাম থাকে, তাদের বাতজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

বাতজ্বরের উপসর্গ :

একটি শিশুর বাতজ্বর আছে কিনা তা বোঝার উপায় হলো-

* শরীরের একদিকের গিরা একসাথে ফুলে যাবে এবং ব্যথা করবে। তবে এমন হতে পারে যে, একটি গিরা একটু ভালো হচ্ছে অন্য একটি গিরা একই সময়ে আবার আক্রান্ত হচ্ছে; যাকে মাইগ্রেটিং আর্থ্রাইটিস (Shifting polyarthritis) বলা হয়।

* সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হার্টের প্রদাহ (Carditis)। এর ফলে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে তা হলো-বুক ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

* নিয়ন্ত্রণহীন অঙ্গসঞ্চালন-বিশেষ করে হাত এবং মুখ কোনো প্রকার উদ্দেশ্যে ছাড়াই নড়াচড়া করবে। যাকে বলা হয় সিডেনহাম কোরিয়া (Sedenham’s chorea) । এর ফলে শিশুর হাতের লেখা বিঘ্নিত হতে পারে।

* অনেক সময় চামড়ার নিচে ছোট ছোট গুটি হয়। যাকে বলা হয় (Rheumatic nodules.

  • শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে বুকে ও পিঠে লালচে বা গোলাপি বর্ণের দাগ হতে পারে। যাকে ইরাইথেমা মার্জিনেটাম (Erythema marginatum) বলা হয়।
  • অন্যান্য উপসর্গ যেমন-
  • শিশুর ঘনঘন জ্বর থাকবে।
  • প্রায়ই কোনো না কোনো গিরার ব্যথা থাকবে।
  • বুক ধড়ফড় করা বা বুকের ব্যথার ইতিহাস থাকবে।
  • ইসিজি করলে হার্টের কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাবে।
  • রক্ত পরীক্ষা করালে রক্তের ESR I ASO titre স্বাভাবিক থেকে অনেক বেশি হবে।
  • প্রথম পাঁচটি লক্ষণকে গুরুতর (Major) ও পরবর্তী পাঁচটি লক্ষণকে ক্ষুদ্রতর (Minor) লক্ষণ বলা হয়। বাতজ্বর নির্ণয়ের জন্য এই লক্ষণগুলো খুবই দরকার। একটি শিশুর মধ্যে যদি কমপক্ষে প্রথমসারির দু’টি লক্ষণ অথবা প্রথম সারির একটি লক্ষণ এবং দ্বিতীয় সারির দু’টি লক্ষণ থাকে তবে আমরা তাকে বাতজ্বর বলে শনাক্ত করতে পারি। এগুলো ছাড়াও গলা ব্যথা করা, গা ঘামানো, দুর্বলতাবোধ, হার্টবিট বেশি হওয়া, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া ইত্যাদি অসুবিধাও দেখা দিতে পারে।
  • রোগের প্রাদুর্ভাব :
  • ১৯২০ সালের পর থেকে পাশ্চাত্যে বাতজ্বরের প্রাদুর্ভাব কমে গেলেও আমাদের মতো স্বল্পোন্নত বা অনুন্নত দেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে প্রতি লাখে ১৫০ থেকে ২০০ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়। অপরদিকে উন্নত দেশে প্রতি লাখে পাঁচজনেরও কম শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়। আগের বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি হাজারে চার থেকে পাঁচজন এ রোগে আক্রান্ত।
  • বাতজ্বর জটিলতা :
  • বাতজ্বরজনিত জটিলতা বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। যেসব শিশুর বাতজ্বর হয় যদি সাথে সাথে উপযুক্ত চিকিৎসা এবং এর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হয় তবে এই জীবাণু অতি সহজেই হৃৎপিন্ডকে আক্রমণ করে। পরবর্তীকালে হৃৎপিন্ডের ভাল্ব নষ্ট হয়ে যায়; শিশু কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই রোগের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। এই রোগ একবার হয়ে গেলে সব সময় ওষুধের মাধ্যমে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। কখনো রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয় না। ওষুধে ভাল কাজ না হলে অপারেশনের মাধ্যমে হার্টের ভাল্ব মেরামত করতে বা ভাল্ব বদলে ফেলতে হয়। সেটা খুবই ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া অপারেশনের পরও সারা জীবন ওষুধ খেতে হয়।
  • আমাদের দেশে যত রোগী হৃদরোগজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয় তার প্রায় অর্ধেকেরই প্রাথমিক কারণ হলো বাতজ্বর। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগী বাতজ্বরজনিত হৃদরোগের কারণে ভর্তি হয়। প্রথমেই বলেছি হার্ট অপারেশনের ৭০-৮০ ভাগ বাতজ্বরজনিত হৃদরোগের কারণে হয়ে থাকে। যার দরুন এই রোগকে বলা হয় রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ। হৃৎপিন্ডের জটিলতা ছাড়াও বারবার হাত-পায়ের গিরা ব্যথা হওয়া এবং ফুলে যাওয়ার ফলে গিরা শক্ত হয়ে যায়, এতে করে রোগী চলাফেরা করতে পারে না। অনেকেই চিরদিনের জন্য বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে একবার এ রোগ হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসা :

* জ্বর ও ব্যথা দমন করার জন্য প্যারাসিটামল বা এ্যাসপিরিন দিতে হবে নির্দিষ্ট সময় পরপর।

* যদি কেবল গলা ব্যথা থাকে তবে Phenoxymethy1 penicillin ১০ দিন দিতে হবে।

* কিছু দিনের জন্য পূর্ণ বিশ্রাম থাকা দরকার হতে পারে, বিশেষ করে শিশুটির যদি হার্টের প্রদাহ (Carditis) থাকে।

* যদি বাতজ্বর থাকে এবং হৃৎপিন্ডের কোনো উপসর্গ না থাকে তবে Phenoxymethy1 penicillin অথবা Benzapen penicillin ২২ বছর বয়স পর্যন্ত অথবা শেষবার আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে হবে।

* যদি বাতজ্বরের ফলে হৃৎপিন্ডের (Carditis) দেখা দেয় তবে Phenoxymethy1 penicillin অথবা Benzapen penicillin ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত দিতে হবে।

* বাতজ্বরের ফলে যদি হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব আক্রান্ত হয় তবে সারা জীবন চিকিৎসা নিতে হবে।

* হার্টের ভাল্ব যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে অপারেশন করে ভাল্ব পরিবর্তন করতে হবে, যা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ এবং অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। পত্রিকার মাধ্যমে অনেকেই ছবিসহ আবেদন করতে দেখা যায় সাহায্যের জন্য। অনেকের আবার সে সুযোগও হয় না অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

ওষুধের ক্ষেত্রে অজ্ঞাতবশত অনেক সময় ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় কিছু লোক এসে ওষুধের দোকানে দোকানিকে বলেন আমাকে কিছু বাতের বড়ি দিন। তখনই দোকানি লোকটিকে কিছু steroid বা prednisolone ট্যাবলেট দিয়ে দেয়। ওই বড়ি খেলে ভালো লাগে এবং দ্রুত ব্যথার উপশম হয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে steroid একটি স্থান দখল করে আছে। এটার ব্যবহারবিধি যেমন বিভিন্ন তেমনি এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি। এই ওষুধ নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা ঠিক নয়, আর যদি করতেই হয় তখন নির্দিষ্ট নিয়মে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ব্যবহার করতে হবে। এই ওষুধের অনিয়মিত ব্যবহারে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় :

বাতজ্বর একটি মারাত্মক ব্যাধি। বাতজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আমাদের দেশে শত শত শিশু প্রতি বছর অকালে মৃত্যু বরণ করছে। যারা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে থাকে তাদের অনেকেরই হৃৎপিন্ড অকেজো হয়ে যায়। সমাজকে তারা কিছুই দিতে পারে না। যদিও বর্তমানে হৃৎপিন্ডের অপারেশন করা খুব একটি কঠিন ব্যাপার নয়, কিন্তু ক’জনই বা এর খরচ বহন করতে পারে? আশার কথা, সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনেক সংগঠনই বাতজ্বর সমস্যাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। বাতজ্বর ও বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট জটিল জনস্বাস্থ্য সমস্যা। কিন্তু এই রোগ প্রতিকার করা অত কঠিন নয়। অসুখটি যদি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে তবে শুধু পেনেসিলিন দ্বারা দীর্ঘ দিন চিকিৎসার মাধ্যমেই এই বাতজ্বর এবং বাতজ্বরজনিত অন্যান্য সমস্যা অতি সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। এজন্য স্বাস্থ্যসচেতনতার খুবই প্রয়োজন। বাতজ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়ার এক থেকে তিন সপ্তাহ আগে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগী গলা ব্যথার অভিযোগ করেন। তাই শিশুদের কোনো ধরনের গলা ব্যথা হলে এবং সেই সাথে জ্বরের ভাব দেখা দিলে প্রত্যেক মা-বাবারই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। সাথে সাথে শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং তার পরামর্শ মতো চলা। অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লেও অনেক মা-বাবাই পয়সা কিংবা স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাবে ডাক্তারের পরামর্শ মতো দীর্ঘ দিন পেনিসিলিন ব্যবহার করেন না এবং করলেও নিয়মিত নয়। ফলে শিশুটি অচিরেই রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ এ আক্রান্ত হয়। কারো কারো অকালমৃত্যু ঘটে। যারা বেঁচে থাকে তারা অনেকেই পঙ্গু হয়ে জীবন যাপন করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে হৃদরোগ তৃতীয় ঘাতক রোগ হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন হৃদরোগের মধ্যে আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপ, বাতজ্বর ও বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ এবং করোনারি হৃদরোগ প্রধান। অনেক উন্নত দেশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাতজ্বর প্রায় দূরীভূত করা গেছে এবং অন্যান্য হৃদরোগ প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাতজ্বর এবং তার জটিলতা যেমন- হার্ট ডিজিজ, অকাল পঙ্গুত্ব যাতে আমাদের জরাগ্রস্ত করে না ফেলে, সে জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এই রোগের যথাযথ চিকিৎসা ও প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। জাপান সরকারের (Japan International Co-operational Agency JICA) সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ১৯৮৮ সালে একটি জাতীয় কেন্দ্র স্থাপন করেছে। বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই কেন্দ্র একটি সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করছে। এ জাতীয় কেন্দ্রের আওতায় ঢাকা শহরের সব বড় হাসপাতালকে সহযোগী কেন্দ্র এবং ঢাকার বাইরের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৩-৯৪ আর্থিক বছরে একে নিয়মিত -এর অন্তর্ভূক্ত করে। এ ধরনের প্রকল্প দক্ষিণ এশিয়ায় এটাই প্রথম। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশুর সঠিকভাবে বাতজ্বর নির্ণয় ও তার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে।

আমরা যদি এই মারাত্মক রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই তবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে-

* সাধারণ জনগনের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে গলা ব্যথা করলে, টনসিল ফুলে গেলে বা ফ্যারেনজাইটিস ইত্যাদি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া একান্ত প্রয়োজন।

* স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে মাঝে চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে, যাদের টনসিলাইটিস বা ফ্যারেনজাইটিস আছে তাদের উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে হবে। বাংআদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কুল Health Clinics এ ব্যাপারে সম্যক ভূমিকা রাখতে পারে।

* বাড়িঘর পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করতে হবে। জীবাণুমুক্ত পানি পানের নিশ্চয়তা থাকতে হবে, নোংরা পরিবেশ দূর করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

* রেডিও, টিভি ও দৈনিক জাতীয় প্রচারমাধ্যমে এই রোগের ভয়াবহতা এবং প্রতিকারের উপায় প্রচার করতে হবে।

* সর্বোপরি সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

লেখক

ডাঃ শাহজাদা সেলিম

এমবিবিএস, এমডি (এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম)

এমএসিই (ইউএসএ)

হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

কমফোর্ট ডক্টরস চেম্বার

১৬৫-১৬৬, গ্রীন রোড, ঢাকা

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সুস্বাস্থ্য প্রতিদিন এর সর্বশেষ খবর

সুস্বাস্থ্য প্রতিদিন - এর সব খবর



রে


রে