ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

ডায়রিয়া প্রতিরোধে বুকের দুধের গুরুত্ব

২০১৪ নভেম্বর ০৩ ১৫:৩৪:১৩
ডায়রিয়া প্রতিরোধে বুকের দুধের গুরুত্ব

ডায়রিয়া বাংলাদেশের প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ডায়রিয়া সব বয়সেরই রোগ, তবুও শিশুদের জন্য তা একটি বিশেষ সমস্যা। প্রতিবছর আমাদের দেশে পাঁচ বছর বয়সের নিচে দুই লক্ষাধিক শিশু ডায়রিয়ায় মারা যায়, অথচ শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই যদি শিশুকে প্রথম পাঁচ মাস শুধু বুকের দুধ দেয়া হয় এবং পাঁচ মাস বয়সের পর বাড়তি খাবারের পাশাপাশি দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো হয়, তবে সেই শিশুর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম থাকে এবং এতে ডায়রিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যাও অনেকাংশে কমে আসবে।

মনে রাখতে হবে, জন্মের পর শিশুর দেহে প্রথম কয়েক দিনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি ও প্রয়োজনীয় পানি সঞ্চিত থাকে। শালদুধই এই সময় শিশুর সুস্থ ও বেঁচে থাকার একমাত্র খাবার, এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ থাকে না এবং কোনো পানি বা পানি জাতীয় জিনিসের প্রয়োজন নেই, বরং কোনো বাড়তি পানীয় দেওয়া এই সময় শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। আরও মনে রাখতে হবে, শালদুধ শিশুর জন্য প্রথম রোগ প্রতিরোধক টিকা।

কিভাবে বুকের দুধ ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে?

মায়ের বুকের দুধ তিনভাবে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে- ইমিউনোলজিক্যাল : অর্থাৎ বুকের দুধে আইজিএ থাকে, যা শিশুর দেহে ডায়রিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্ম দেয়। এই প্রতিরোধী পদার্থ ডায়রিয়ার জীবাণু বিশেষ করে রোটা ভাইরাস, ই-কলাই ও ভিব্রিও কলেরার বিরুদ্ধে বেশি কার্যকর।

নিউট্রিশিনালি : মায়ের বুকের দুধে প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে। ফলে শিশুর অপুষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

ডেভেলপমেন্টালি : বুকের দুধের কিছু উপাদান শিশুর অন্ত্রনালীর মিউকাস মেমব্রেনকে পরিপক্ব করতে সহায়তা করে, ফলে ডায়রিয়ার জীবাণু অন্ত্রনালীকে সংক্রমিত করতে পারে না। অতএব মা তার সন্তানকে সঠিক অবস্থানে বসিয়ে বা রেখে এবং নিজে সঠিক অবস্থানে বসে বুকের দুধ দিলে শিশুর বুকের দুধ না পাওয়ার কোনো কারণ থাকে না।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যে সব শিশু মায়ের বুকের দুধ খায় বা খেয়েছে এবং যারা খায়নি বা খাচ্ছে না, এদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের অনুপাত যথাক্রমে শতকরা ২২:৫৮ ভাগ এবং যে সব শিশু বুকের দুধ খায় বা খেয়েছে এরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। আর যারা বুকের দুধ খাচ্ছে না বা খায়নি তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি।

আরও একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যে সব শিশুর ডায়রিয়া চলাকালে বুকের দুধ খাওয়া চলমান রেখেছে তাদের শরীরে খনিজ লবণ ও প্রয়োজনীয় খাবারের উপাদান অন্ত্র থেকে রক্তে সহজে শোষিত হয়।

ডাঃ শাহজাদা সেলিম
এমবিবিএস, এমডি (এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম)
এমএসিই (ইউএসএ)
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
কমফোর্ট ডক্টরস চেম্বার
১৬৫-১৬৬, গ্রীনরোড, ঢাকা

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সুস্বাস্থ্য প্রতিদিন এর সর্বশেষ খবর

সুস্বাস্থ্য প্রতিদিন - এর সব খবর



রে


রে