ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করুন

২০১৪ নভেম্বর ১৪ ০১:০২:১০
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করুন

প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে পালিত হয়। আইডিএফ (International Diabetic Federation) ডায়াবেটিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে দিনটি পালনের উদ্যোগ নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য সংগঠন এর সাথে একমত পোষণ করে। এ দিনটি বেছে নেওয়ার কারণ হল— বেন্টিনের (ইনসুলিন আবিষ্কারক) জন্ম দিন এটি।

আইডিএফ-এর সূত্র মতে, পৃথিবীতে ২০১২ সালে ৩৪২ মিলিয়ন ডায়াবেটিসের রোগী ছিল। যা ২০৩৫ সালে ৫৯২ মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে ২০১২ সালে ৮.৪ মিলিয়ন ডায়াবেটিসের রোগী ছিল। ২০৩০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬.৮ মিলিয়ন। এক প্রজন্মেই বিশ্বব্যাপী ৫০ কোটি ডায়াবেটিস রোগী যোগ হচ্ছে। প্রতিটি দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মোট খরচের একটা বিশাল অংশ দখল করে আছে ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিসের জটিলতা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সমস্যা।

কিন্তু ডায়াবেটিস অনেকাংশেই প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য ব্যাপক ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক সচেনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী। আইডিএফ এ চেতনাকে মাথাই রেখেই ডায়াবেটিস দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়। প্রতি বছর প্রচারণামূলক প্রতিপাদ্য বিষয় ঠিক করা হয়। ২০১৪ সালের ডায়াবেটিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হল— ‘ডায়াবেটিস : ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করুন’। ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবসের লক্ষ্যসমূহের মাঝে আছে ক) সঠিক খাদ্যাভ্যাস সৃষ্টি, খ) সঠিক খাদ্য উপাদান বাছাই ও গ) দিনের শুরু হোক সঠিক নাস্তা দিয়ে।


ডায়াবেটিসের জটিলতা

রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বা সুগার শরীরের অধিকাংশ কোষে কিছু বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। যার জন্য এ কোষগুলো নিজেদের কাজকর্ম ঠিকমত করতে পারে না। ফলস্বরূপ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সাধিত হয়। যার অধিকাংশই পরে আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না। কিছু দিন রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে যে, পরিবর্তন শুরু হয় তার কুফল হাতেনাতে পাওয়া না গেলেও দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয় কিছুদিন পরেই। আমরা একাধারে এর নাম করছি।
ছোট রক্তনালি ও স্নায়ুতে ডায়বেটিসজনিত জটিলতা
রেটিনোপ্যাথি, ক্যাটার‌্যাক্ট বা চোখের ছানি

* দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া
নোফ্রোপ্যাথি
* কিডনীর কার্যকারিতা কমে যাওয়া বা রেনাল ফেইলুর
পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি
* হাত-পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া
অটোনমিক নিউরাপ্যাথি
* হঠাৎ দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়া
* পাকস্থলি ও আন্ত্রিক সমস্যা
পায়ের সমস্যা
আলসার বা ঘা হওয়া
পায়ের অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হওয়া
বড় রক্তনালিতে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা
হৃৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহে সমস্যা
* এম আই/এ্যাজিনা
মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা
* টিআইএ/স্ট্রোক
পায়ে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা
* পঙ্গু হওয়া

সচেতনতা সৃষ্টির কেন্দ্রে আছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে জানা এবং তা হ্রাসকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সমূহ হল—
১। বংশগত প্রবণতা
২। শারীরিক শ্রম বিমুখতা
৩। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস
৪। দৈহিক স্থূলতা
৫। বয়োবৃদ্ধি
৬। উচ্চ রক্তচাপ
৭। জাতিসত্তা
৮। গ্লুকোজ অসহিষ্ণুতা
৯। গর্ভকালীন অপুষ্টি
১০। জন্মকালে কম ওজন

সকল মানুষকে তার ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি বিবেচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ডা. শাহজাদা সেলিম
এমবিবিএস, এমডি (এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম)
এমএসিই (ইউএসএ)
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।
কমফোর্ট ডক্টরস্ চেম্বার
১৬৫-১৬৬, গ্রীণরোড, ঢাকা।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সুস্বাস্থ্য প্রতিদিন এর সর্বশেষ খবর

সুস্বাস্থ্য প্রতিদিন - এর সব খবর



রে


রে