ঢাকা, বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ৩ মাঘ ১৪২৫

শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ডায়েট

২০১৫ জানুয়ারি ০৭ ১৩:৫৯:৪১
শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ডায়েট

ডাঃ শাহজাদা সেলিম

শীতের প্রভাবে অনেকেরই মন-মেজাজ ফুরফুরে থাকে না। শীতে শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভোগেন না, এমন মানুষ নিতান্তই বিরল। আর যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক। তারা বছর জুড়েই ছোটখাটো সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে শুষ্ক ত্বক ও ঠোঁটের কারণ যে ডায়েটের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে, সেটা ভেবে দেখেছেন কী? শরীরে এসেনশিয়াল ফ্যাটের অভাব এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়া বায়োটিন নামের অতি প্রয়োজনীয় যৌগের অভাবেও ত্বকে আসতে পারে শুষ্কভাব।

স্লিম থাকার প্রচেষ্টায় অনেকেই ডায়েট থেকে ছেঁটে ফেলছেন অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাট। সবকিছুতেই ক্যালরিবিহীন, ফ্যাটবিহীন খাবারের চাহিদা। যেমন ধরুন, প্রতিদিন যদি কেউ লো ফ্যাট মিল্ক খান। তাহলে শরীরে জরুরি ফ্যাটের অনুপাত কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। রান্নায় শুধুমাত্র এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে বা বাজারচলতি হার্টের উপযোগী তেল ব্যবহার করলেও একই সমস্যা হতে পারে। বেশী পরিমাণে তেল বা ঘি খাওয়া মোটেও ভাল নয় এটা আমরা সবাই জানি। তবে কেউ যদি নিয়ম করে এগুলোকে নিজের ধারপাশেও ঘেঁষতে না দেন। তাহলেও শরীরে জরুরী নিউট্রিয়েন্টসের অভাব ঘটবে। সিদ্ধ বা ভাপানো সবজি খেতে পারেন। তবে প্রতিদিন নয়। আসলে, অত্যধিক ফ্যাট ইনটেকের ফলে যেমন ওজন বাড়ে ও একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তেমনই এসেনশিয়াল ফ্যাটের অভাবেও ত্বকের জেল­ হারিয়ে যেতে বাধ্য। ডায়েটে জরুরী ফ্যাট না থাকলে ত্বকের আর্দ্রতা কমতে থাকে। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। অবশ্য ডায়েটে দু’ একটা পরিবর্তন করলেই কাজ হয়ে যায়।

এদিকে ডায়েটে এ্যাডড ফ্যাট এড়িয়ে চললেও কয়েকটি জিনিস অবশ্যই বাদ দেবেন না। দুধ খেতে পারেন। ডাবের পানি খেলে ডাবের শাঁস ফেলে দেবেন না। শুষ্ক ত্বক দূর করতে নারকেল তেল লাগাতেও অনেকে পরামর্শ দেন। আর নারকেল বা ডাবের শাঁস সুগার ক্রেভিং কমিয়ে দেয়। যদি ওজন কমানো আপনার লক্ষ্য হয়, তাহলে চিনির বদলে খেতেই পারেন। প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল যাতে শরীর গ্রহণ করতে পারে, তার জন্য শরীরের প্রয়োজন বেসলাইন ডায়েট। আর সেই ডায়েটে যেন থাকে পর্যাপ্ত এসেনশিয়াল ফ্যাট। তবে কার্বোহাইড্রেট আর প্রোটিনও থাকতে হবে যথেষ্ট। এগুলো ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে দরকারি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত জল তো খেতেই হবে। ঠোঁটে শুষ্কভাব হলে ঠোঁট ফাটতে শুরু করে। ভিটামিন ই২, ই৬ আর নিয়ানিসের অভাবে ঠোঁট ফাটে। অত্যধিক মেপে ডায়েট প্ল্যান করলে এই অতিপ্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া বিশেষ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও এ রকম হতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রক পিল বা নিয়মিত পিনকিলার খেলেও ঠোঁট ফাটতে পারে। আসলে এই ওষুধ বেশিমাত্রায় খেলে শরীরে সঞ্চিত ভিটামিন ই-র অভাব দেখা দেয়। তাই, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ বদলে ফেলা প্রয়োজন। শরীরে যাতে সর্বোচ্চ পুষ্টি প্রবেশ করে, সে জন্য ডায়েট নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারেন। নিরামিষ-আমিষ মিলিয়ে ডায়েট চার্ট বানান। আর প্রসেসড ফুড যত কম পরিমাণে কাওয়া যায়, ততই ভাল।

ডাঃ শাহজাদা সেলিম
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
এবং
কমফোর্ট ডক্টর’স চেম্বার
১৬৫-১৬৬, গ্রীনরোড, ঢাকা।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সুস্বাস্থ্য প্রতিদিন এর সর্বশেষ খবর

সুস্বাস্থ্য প্রতিদিন - এর সব খবর



রে


রে