ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

আকুপ্রেশার চিকিৎসায় বিপ্লব আনতে চান সাগর সগীর (ভিডিওসহ)

২০১৫ জানুয়ারি ২৪ ১৫:৫৩:৩২
আকুপ্রেশার চিকিৎসায় বিপ্লব আনতে চান সাগর সগীর (ভিডিওসহ)

সৌরভ রায়, দ্য রিপোর্ট : নিজের চিকিৎসা নিজে করার প্রাকৃতিক এক চিকিৎসা পদ্ধতি আকুপ্রেশার। এই পদ্ধতিতে কোনোপ্রকার ওষুধ ছাড়াই শরীরের নির্দিষ্ট কিছু বিন্দুতে নির্দিষ্ট নিয়মে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে রোগ নিরাময় করা যায়। রিফ্লেক্সোলজি নামে পরিচিত আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভব ঠিক কবে, কোথায় এবং কে করেছেন- এর প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, প্রাচীন ভারতে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত ছিল এবং ভারতীয় মুনী, ঋষি, যোগী, সন্ন্যাসী, দরবেশ ও আউলিয়াগণ রোগগ্রস্ত মানুষদের এই চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

পরবর্তীকালে বিস্ময়কর কার্যক্ষমতাসম্পন্ন এ চিকিৎসা ব্যবস্থা কালেরগর্ভে উপমহাদেশ থেকে হারিয়ে যায়। ধারণা করা হয়, বৌদ্ধ ভিক্ষু কিংবা সন্ন্যাসীদের মাধ্যমে প্রথমে শ্রীলঙ্কা এবং পরে চীন ও জাপানে তা ছড়িয়ে পড়ে। চীন ছাড়া মিসর ও উত্তর আমেরিকায় খ্রীষ্টের জন্মেরও প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে এই চিকিৎসা পদ্ধতি চর্চার নিদর্শন পাওয়া যায়।

আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতিটিকে আজকের এই পৃথিবীর সঙ্গে পুনরায় পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মূল কৃতিত্বের দাবিদার ডা. উইলিয়াম ফিটসজেরাল্ড। প্রখ্যাত এই চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা থেকে মেডিসিনে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করার পর ভিয়েনা, প্যারিস ও লন্ডনের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের ওপর এই পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এর অব্যর্থ কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ করেন। সুদীর্ঘ গবেষণার পর ফিটসজেরাল্ড তার সহকর্মী ডা. এডউইন বাওয়ার্ডসকে নিয়ে আকুপ্রেশারের ওপর ‘জোন থেরাপি’ নামে একটি বই রচনা করেন। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ উন্নত বিশ্বে আকুপ্রেশার একটি স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি।

স্বচিকিৎসা গবেষক ও সাংবাদিক সাগর সগীর বাংলাদেশে আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতির পথিকৃৎ। তিনি ‘বঙ্গজ স্বচিকিৎসা পরিবার’-এর ব্যানারে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতিটিকে ছড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মাঝে এ চিকিৎসা পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে আকুপ্রেশার সুফলভোগীদের নিয়ে ‘স্বচিকিৎসা আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২০০৪ সালে কলকাতায় আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতির সন্ধান পান সাংবাদিক সাগর সগীর। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ওপর এ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ করে বিস্ময়কর ফলাফল প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে পরিচিত রোগগ্রস্ত বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ চিকিৎসা পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেন তিনি।

সাগর সগীর পরবর্তী সময়ে ভারতের মুম্বাই গিয়ে উপমহাদেশে বিখ্যাত আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ দেবেন্দ্র ভোরার কাছ থেকে এ চিকিৎসা পদ্ধতি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। এর পর দেশে প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আকুপ্রেশার চর্চার উদ্যোগ নেন তিনি। এ লক্ষ্যে ২০০৫ সালে রাজধানীর মিরপুরে সমবায় সংগঠন ‘কিংশুক বহুমুখী সমবায় সমিতির’ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির মাহমুদীর উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতি চর্চা শুরু করেন তিনি। ‘কিংশুক স্বচিকিৎসা কর্মসূচি’ নামে দেশে প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আকুপ্রেশার চিকিৎসা সেবা প্রদান ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেন সাগর সগীর।

পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালে বৃহত্তর পরিসরে মিরপুর এলাকায় এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে সেবা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। সাগর সগীরের নেতৃত্বে ২০০৭ সালে মানব সেবার ব্রতে উজ্জীবিত একদল তরুণ-তরুণীকে নিয়ে সমবায় সংস্থা ‘বঙ্গজ পরিবার’ আত্মপ্রকাশ করে। এ পরিবারের উদ্যোগে দেশব্যাপী স্বচিকিৎসা আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গজ স্বচিকিৎসা পরিবার’।

তার পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশে আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতির পথিকৃৎ স্বচিকিৎসা গবেষক সাগর সগীরকে। সারাদেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, বাণিজ্যিক, বেসরকারি সংগঠন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার উদ্যোগে আকুপ্রেশার বিষয়ে একের পর এক সভা, সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হতে থাকে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাগর সগীর ও তার স্বচিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে অসংখ্যা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

বঙ্গজ স্বচিকিৎসা পরিবারের পরিচালনায় সারাদেশে আকুপ্রেশার বিষয়ে বিভিন্ন সেমিনারে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষ এ চিকিৎসা পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাগর সগীর প্রণীত ‘স্বচিকিৎসা প্রয়োগবিধি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

সাগর সগীর দ্য রিপোর্টকে জানান, আকুপ্রেশার মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ও সুফলভোগীদের নিয়ে এ পর্যন্ত দুটি পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সব অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে এ চিকিৎসা পদ্ধতির সফলতা দেখে অভিভূত হন।

সাগর সগীর বর্তমানে আকুপ্রেশার, ইয়োগা ও অন্যান্য ন্যাচারোপ্যাথির ওপর উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ‘স্বামী বিবেকানন্দ সুভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ‘মহাঋষি অরবিন্দ ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারোপ্যাথি এ্যান্ড ইয়োগিক সায়েন্স’ পরিচালিত ‘ব্যাচেলর অব ন্যাচারোপ্যাথি এ্যান্ড ইয়োগিক সায়েন্স’ কোর্সে অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটিতে তিনি দেশে এসেছেন। সম্প্রতি দ্য রিপোর্ট কার্যালয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে তার আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

তিনি দ্য রিপোর্টকে আরো বলেন, ‘আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতিতে করতল এবং পদতলের, ক্ষেত্র বিশেষে দেহের কোনো কোনো অংশে আঙ্গুল বা ভোঁতা কাঠিজাতীয় কোনোকিছু দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়। এ পদ্ধতিতে কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই রোগ নির্ণয় করা যায় অনায়াসে, নির্ভুলভাবে এবং রোগের প্রারম্ভিক পর্যায়ে। বিস্ময়করভাবে রোগ নিরাময় হয় কোনো ওষুধ ছাড়াই এবং এ পদ্ধতিতে রোগ প্রতিরোধও করা যায় সহজেই নিশ্চিতভাবে।’

সাগর সগীর বলেন, আকুপ্রেশার চিকিৎসায় আমি বিপ্লব আনতে চাই। সাধারণ মানুষের মাঝে এ সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছি।

জ্বর, সাইনাস, মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, চোখের সমস্যা, পিঠে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, সার্ভিক্যাল স্পন্ডিলাইটিস, সায়াটিকা, পেটেব্যথা, পেটে গ্যাস ও বেদনা, কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিডিটি, অর্শ্ব (পাইলস), দাঁতব্যথা, ক্লান্তি, অনিদ্রা, নিম্ন রক্তচাপ, মানসিক অবসাদ, সাইনাস, টনসিল, ঠাণ্ডার সমস্যা, গলাব্যথা, এ্যাজমা, মাসিকের সমস্যা, শ্বেতপ্রদরের মতো রোগে আকুপ্রেশার চিকিৎসা পদ্ধতিতে সহজেই নিরাময় লাভ করা যায়। এ ছাড়াও এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, জন্ডিস, কিডনির সমস্যা, পার্কিনসন্স এবং ক্যান্সারের মতো জটিল দুরারোগ্য ব্যাধিতেও বিস্ময়কর সুফল পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

শুধু এই চিকিৎসা পদ্ধতিটা জানা থাকলে যে কোনো মানুষ তার শারীরিক অসুস্থতায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করে দিতে পারবেন এবং তাৎক্ষণিক সুফলও পাবেন বলে জানান সাগর সগীর।

আকুপ্রেশার সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য ও সবার জন্য (রুম নং-১, ২য় তলা, ইলেকট্রিক প্লাজা, ট্রপিকানা টাওয়ার, ৪৫, পুরানা পল্টন, ঢাকা। মোবাইল- ০১৭৬০৮১০৮১০, ০১৯৪২৭৫৩৬৫৯, ০১৭১৭৮৩২৯৫১) আকুপ্রেশার সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

(দ্য রিপোর্ট/এস/এইচ/এইচএসএম/এজেড/জানুয়ারি ২৩, ২০১৫)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

প্রাকৃতিক ও হোমিও চিকিৎসা এর সর্বশেষ খবর

প্রাকৃতিক ও হোমিও চিকিৎসা - এর সব খবর



রে


রে