সারা পৃথিবীর মানুষেরই অন্যতম প্রধান খাদ্য হল ভাত। আর আমাদের দেশের মানুষের তো প্রধান খাদ্য ভাত। এ দেশের মানুষ প্রতিদিন ভাত খেতে ভালবাসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাতের সাথে সাথে রুটিও যোগ হচ্ছে খাদ্য তালিকায়। কিন্তু প্রতিদিন ডায়াবেটিস রোগীর  সংখ্যা বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথেই এ প্রশ্নটিও জোরালো হচ্ছে যে, ডায়বেটিস রোগীদের জন্য কি ভাত খাওয়া ক্ষতিকর?

আমাদের শরীরের জন্য শর্করা একটি অত্যাবশ্যকীর খাদ্য উপাদান। আমরা ভাত থেকে শর্করা পাই। শর্করার আরও কিছু উৎস আছে। তার মধ্যে রুটি প্রধান। ভাত ও রুটির মধ্যে শর্করার গুণমান প্রায় একই রকমের। কিন্তু ৬০ গ্রাম চালের ভাতে আমরা ৫০ গ্রাম শর্করা উৎস পাই অর্থাৎ শর্করা উৎসের পরিমাণগত দিক থেকে ভাত অনেক উঁচুতে। আর এ শর্করা যা থেকে গ্লুকোজ হবে সেটিই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ভাত সব সময় দেহে মেদ জমার কারণ নয়। অনেকের ধারণা এরূপ যে, যারা ভাত খায় তারা মোটা ও ভুঁড়িওয়ালা হয়। আসলে ব্যাপারটা ঠিক এরূপ নয়। আপনি যদি উপরের হিসেব মনে রেখে ভাত বা রুটি খেতে পারেন তবে দুটি আপনার জন্য সমান। কিন্তু আমাদের ব্যবহারিক কিছুটা পার্থক্য আছে। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য দৈনিক শর্করা গ্রহণের একটি কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ থাকে। এ পরিমাণটি ভাত খাবার পর সঠিকভাবে মেনে চলা কঠিন। কিন্তু একজন ডায়াবেটিসের রোগীর পক্ষে নির্দিষ্ট আকারের নিদিষ্ট সংখ্যক রুটি খাওয়া বেশ সহজ। নিশ্চিতভাবে উভয়ক্ষেত্রে আমাদের শর্করার পরিমাণ মনে রাখতে হবে। তবে রুটি খেলে আমরা একটি দিকে লাভবান হতে পারি। রুটির আটাতে কিছু পরিমাণ সেলুলোজ থাকে। এটি হজম হয় না মলের পরিমাণ বাড়ায়। তাই যাদের কোষ্টকাঠিন্য আছে তাদের জন্য রুটি কিছুটা সহায়ক হবে । যারা ভাতের কোনো বিকল্প ভাবতে পারেন না তাদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ ভাতের সাথে যথেষ্ট পরিমাণে শাক-সবজি খাবেন। আর সালাদে যেন বেশ শাঁসালো ফলমূল বা সবজি থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এ থেকে আপনি ফাইবার পাবেন।

লেখক
ডা. শাহজাদা সেলিম
এমবিবিএস, এমডি (এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম)
এমএসিই (ইউএসএ)
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।
কমফোর্ট ডক্টরস্ চেম্বার
১৬৫-১৬৬, গ্রীন রোড, ঢাকা।