ডা. শাহজাদা সেলিম

তৃপ্তিদায়ক সঙ্গমের অক্ষমতাই হল ত্রুটিপূর্ণ যৌনক্রিয়া। এই সমস্যা উভয় সঙ্গীর ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে। কোনো এক জনের অক্ষমতা হয়তো, অন্যজনের অপেক্ষায় বেশি হয়। কিন্তু যৌন অক্ষমতার (Sexual Inefficiency) জন্য শুধু একজন সঙ্গী সম্পূর্ণ দায়ী হতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে যৌন অক্ষমতা ভারতীয়দের মধ্যে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও অনায়াসেই চিকিৎসা দ্বারা এর সমাধান সম্ভব। প্রকাশিত নিবন্ধে শুধু পুরুষদের যৌন অক্ষমতা সম্বন্ধে আলোচনা করা হল। এদের মধ্যে মুখ্য সমস্যাগুলি হল- ত্রুটিপূর্ণ ঋজুতা (Erectile Dysfunction), দ্রুতস্খলন (Premature Ejaculation) ও যৌন অনভিপ্রায় (Lack of Sexual Desire)।

ত্রুটিপূর্ণ ঋজুতা : এটি হল সঙ্গমের সময় পুরুষাঙ্গের অসম্পূর্ণ ঋজুতা। গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ পুরুষ ৪০ বছর বয়সে ও ৭০ শতাংশ পুরুষ ৭০ বছর বয়সে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে ভোগেন। এর মুখ্য কারণগুলি হল- হৃদ-সংবহন তন্ত্রের রোগ (cardiovascular disease), স্নায়ুঘটিত অসস্থতা (neurological disorder), হরমোনের অসম্পূর্ণতা, মধুমেহ, উচ্চ রক্তচাপ, স্থুলতা ইত্যাদি। মানসিক কারণগুলি হল- উদ্বেগ, মানসিক চাপ, অবসাদ, যৌনক্রিয়া সম্বন্ধীয় ভয়, বৈবাহিক জীবনের অন্যান্য সমস্যা, অপরাধবোধ, অতীতের কোনো আঘাত, বিভিন্ন মানসিক রোগের (SSRI-selective serotonin reuptake inhibitor) ও বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া, মদ্যপান ও ধূমপান।

দ্রুত স্খলন : এটি হল সঙ্গমক্রিয়া শুরু হওয়ার পূর্বে বা অব্যবহিত পরেই বীর্যের স্খলন। উভয় সঙ্গীর মনেই এটি এক অসম্পূর্ণ ও অতৃপ্তিকর যৌন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করতে পারে। ফলে পরবর্তী সময়ে সঙ্গমকালীন উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পায় এবং সমস্যা গভীরতর হয়ে ওঠে। এই দ্রুত স্খলন প্রধানত দুই প্রকার- প্রাথমিক দ্রুত স্খলন (সম্পূর্ণ জীবনব্যাপী) ও গৌন দ্রুত স্খলন (অর্জিত)। International Society of Sexual Medicine (ISSM) এর তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক দ্রুত স্খলনের ক্ষেত্রে বীর্যপাত পুরুষাঙ্গের অনুপ্রবেশের পূর্বে বা ভেদনের এক মিনিটের মধ্যেই সংঘটিত হয়। কিন্তু গৌন দ্রুত স্খলনের ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা গেলেও, পূর্বে সন্তোষজনক যৌনক্রিয়ার অভিজ্ঞতা থাকে। এ সবের ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যা শারীরিক সমস্যার থেকেও প্রধানতর।

যৌন অনভিপ্রায় : এই সমস্যার ক্ষেত্রে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা কমে যায় বা একেবারে উদ্রেক হয় না। প্রায় ৩১ শতাংশ পুরুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত। বর্তমানের দ্রুত ও টেনশন পূর্ণ জীবনযাত্রার ফলে এই সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন শরীরবৃত্তীয় ও মানসিক কারণ, যেমন- উদ্বেগ, অবসাদ, নিদ্রাহীনতা, মদ্যপান, ধূমপান, বিভিন্ন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যুক্ত ওষুধের ব্যবহার, হরমোনের তারতম্য, সময়ের অপ্রতুলতা, পারস্পরিক সম্বন্ধের টানা পোড়েন ও স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় নানাবিধ কারণ এই যৌন অনভিপ্রায়ের জন্য দায়ী।

ডা. শাহজাদা সেলিম
এমবিবিএস, এমডি (এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম)
এমএসিই (ইউএসএ)
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
কমফোর্ট ডক্টর’স চেম্বার
১৬৫-১৬৬, গ্রীনরোড, ঢাকা